জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম একদা বলেছিলেন, গণ মানুষকে জাগিয়ে তুলতে কবিতা অস্ত্রের ন্যায় কাজ করে।
সূচনায় কবি কবিতার প্রতি তার মোহ, আবেগ নিয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করছেন। তিনি তার পরিপার্শ্বিকতায় কবিতার স্পষ্ট ছাপ অনুধাবন করেন।
কবিতা হলে জীবনের সাথে ঘনিষ্ঠ সম্পর্কযুক্ত, আর "মাংসাশী ঘুণ পোকা " কবিতার মাধ্যমে কাঠকে উপমা রেখে লেখক বুঝিয়েছেন, সকলের উপকার করা বস্তু ও দিনশেষে নিয়মের বেড়াজালের কাছে পরাজিত। তাই কাঠ যতই উপকার করুক ঘুণ পোকা ধারা আক্রমণ হবেই। এই পৃথিবীতে সকলেই কারো গল্পে আবির্ভাব হয় নায়িকা রূপে বা ভিলেন রূপে। "অবহেলা " কবিতার মাধ্যমে আম গাছ -মুকুল -প্রজাপ্রতির সম্পর্ক ছিলো দারুণ একটি উদাহরণ। পরের অংশে কবির দুইটি কবিতা ছিলো "বাবা ঈদ কিনতে গেছে ও শেষ চিহ্ন " যা পারস্পরিক সম্পর্কযুক্ত। পরিবারের সদস্যদের শখ পূরণ ও তার ফলাফল স্বরূপ ব্যক্তির অনুভূতি ও প্রকৃতির সামিলতার দারুণ এক দৃশ্য পরিলক্ষিত হয়েছে। আমরা আমাদের নিজস্বার্থের জন্য অন্যের ইচ্ছেকে অবজ্ঞা করে থাকি, এই বিষয় নিয়ে কবি লিখেছেন "মার্জনা প্রার্থী " কবিতা। "বিশ্বাস শিকারী " থেকে "খনার বচন " কবিতা পর্যন্ত কবি নিজের ছোটোবেলা, পরিবারের জৈষ্ঠ্যদের সাথে স্মৃতি, প্রকৃতি প্রেম ফুটিয়ে তুলেছেন। একজন সংসার চালনাকারী ব্যক্তির কায়িকশ্রমের কথা "সঙ-সার " কবিতায় ফুটিয়ে তুলেছেন। এর পরের "গণতন্ত্র" ও" স্বাধীনতা.. " কবিতায় কবি 'সমাজে যোগ্যের চেয়ে অযোগ্যেরাই প্রাধান্য ' কে মুখ্য করেছেন। এরপরই "পরের ক্ষুধা আর উনুনে এক সাথে জ্বলছে -নিরন্তর " একবেলা অন্নের সংগ্রাম খুব সুন্দরভাবে উপস্থাপন করেছেন।
যেকোনো পরিস্থিতিতে অসফল হলে, নিজেকে প্রশ্ন করার অনুরোধ এবং পরিশ্রম করে সফলতা আনতে হবে, লেখক তার পরের দুইটি কবিতায় উল্লেখ করেছেন।লেখক লকডাউনের সময় তার অতীত স্মৃতি , নিজ আনন্দ, সমসাময়িক বিষয়ে রাষ্ট্রের কাছে তার আবদার অত্যন্ত চমৎকার করে তুলে ধরেছেন "হোম কোয়ারান্টাইন থেকে.. সে তো গাছেই সুন্দর কবিতায়। "
" ময়না দি'র চায়ের দোকান" লেখক একটি চায়ের দোকানের সাথে শত মানুষের শত অনুভূতি অত্যন্ত সুনিপুণ ভাবে বর্ণনা করেছেন। শহরের কোণায় এমন হাজারো আলো, শব্দ, কবিকে তার রাত সৌন্দর্য উপভোগ থেকে বঞ্চিত করেছেন বলে "ঘুমের জন্য আপিল " কবিতার মাধ্যমে অভিযোগ করেছেন।
"বিনা অভিযোগের যাত্রী থেকে ঘূর্ণিঝড় " পর্যন্ত কবিতায়,কবি নানান ভাবে নানান উপমায় তার সাথে তার মায়ের স্মৃতি, বিচ্ছেদের যন্ত্রণা, তার অনুভূতি, প্রিয় মানুষের জন্য হাহাকার অত্যন্ত করুণ ভাষায় ব্যক্ত করেছেন। এরপর আবার ও লকডাউনের সময়ের কথা উল্লেখ করে কবি মানুষের মৌলিক অধিকারের দুদর্শার চিত্র অত্যন্ত ব্যথিত হয়ে নিরুপণ করেছেন। মৃত্যু এক ভয়ঙ্কর বিষয় এর সাথে থাকে হাজরো শিকড়।
"লকডাউন থেকে ট্রাম্পকার্ড " কবিতা গুলো ছিলো একটি জীবন্ত চিত্র নাট্য। এতো কষ্ট, এতো কান্নার শোরগোল হৃদয়ে রক্তক্ষরণ হয়েছে তাই কবি তার " শেষ যৌবন থেকে রাজত্ব চাই " কবিতায় তার বলিষ্ঠ শব্দ উচ্চারণ করেছেন। আর "আমি একটি সিনেমা বানাবো... " কবিতায় কবি তার আগের অনুভূতি গুলো মিশ্র করে সমাজের উচ্চবর্গের চরিত্র ফাঁস করবেন।
কবি তার কষ্ট ভাগ করে নেওয়ার জন্য তার প্রিয়তমাকে আহবান জানিয়েছেন। "খেয়ালি পুতুল থেকে কিশোর প্রেম " কবিতায় কবি তার প্রাণাধিক প্রিয় সঙ্গীনীর কাছে নানাভাবে তার সাথে তৈরি নানা মূহুর্তের স্মৃতি উল্লেখ করেছেন। আর তাকে হারানোর বেদনা ছিলো "পোস্টমর্টেম " কবিতায়। তবুও তার প্রতি তার প্রেম নিবেদন একটু ও কমেনি বরং আরো বেড়েছে যা অত্যন্ত সুনিপুণ ভাষায় "প্রয়াণে ও আমি তোমাকে চাইব.. " কবিতায় উল্লেখ করেছেন। লেখক "আর ক'টা দিন " কবিতায় তার তীব্র আকাঙ্খা ও আবেগের চিত্র অঙ্কন করেছেন" ডাকবাক্স... "কবিতার প্রতিটি চরণে।
এরপর ই লেখক নানান ভাবে তার প্রিয়তমাকে নিয়ে তার ছোট্ট ইচ্ছে পূরণ , তার সাথে থাকার আবদার করেছেন। তাকে ছাড়া তিনি অসহ্য যন্ত্রণা ভোগ করছেন।
লেখক পুনরায় সমাজের নানা অসংগতি নানা আলোকচিত্রের মাধ্যমে তুলে ধরেছেন "শব্দ সংবিধান" পর্যন্ত কবিতায়।শেষ অংশে লেখক একজন আপন মানুষ তার সবটুকু দিয়ে কিভাবে একজন মানুষকে সমাজ ও জীবনে চলার পথ রঙ্গিন করে তার অমায়িক ভঙ্গিতে বর্ননা করেছেন।তবে বির্বতনে যেনো হারিয়ে না যায় তাতে ও সর্তক করেছেন।
একদম শেষ কবিতাগুলোতে কবি শুরুর গতিশীলতা ধরে রেখেছেন, আর সমাজ ঘটে যাওয়া নানান সামাজিক অপরাধ সমূহ চিহ্নিত করে সকলকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহবান জানিয়েছেন।
পুরো বইতে লেখকের জীবনের কণা যেনো বহন করছে প্রতিটি কবিতা।


.png)
No comments:
Post a Comment